Breaking News

হাসপাতালের ফ্রিজে রক্তের ব্যাগের সাথে মাছ-মাংস, মেয়াদউত্তীর্ণ ইনজেকশন ব্যবহার করে অপারেশন

অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদউত্তীর্ন ইনজেকশন এবং ড্রাগ ব্যবহার করে অপারেশন করা হচ্ছে। ওটিতে রোগী কাতরালেও ডাক্তারের কোন হদিস নেই। চট্টগ্রাম নগরীর চট্টেশ্বরী রোডের কসমোপলিটান হসপিটালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এ চিত্র দেখা যায়।

হাসপাতালে অস্বাস্থ্যকর নোংরা পরিবেশে চালানো হচ্ছে ওটি। এখানকার ফার্মাসিতে পাওয়া গেছে মেয়াদউত্তীর্ণ ও লেবেলবিহীন ওষুধ। ফ্রিজে রক্তের ব্যাগের সাথে রাখা হয়েছে মাছ-মাংস।

22141015_10203753301950508_8799915372307889333_n

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে এই চিত্র উঠে আসে। তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে তিন লক্ষ টাকা জরিমানা এবং তিনজনকে আটক করেন।

আদালতের সাথে আসা সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ড. মোঃ নূরুল হায়দার জানান, ওটিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রাণঘাতী, এসব ব্যবহারে রোগীর মৃত্যু হতে পারে। এছাড়াও নোংরা এবং অস্বাস্থ্যকর যে পরিবেশ পাওয়া গেছে কসমোপলিটন হাসপাতালে, তা রোগীদের জন্য মারাত্মক ঝুকিপূর্ণ।

কসমোপলিটান হসপিটালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনার সময় রোগীর সাথে থাকা লোকজন আদালতে অভিযোগ করেন যে, তাদের রোগীদের দীর্ঘসময় হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায় ফেলে রাখা হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ পরিচয় গোপন করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন। কসমোপলিটন হাসপাতালের তিনজন কর্মকর্তা কর্মচারিকে আটক করা হয় এবং পরে হাসপাতালের শেয়ার হোল্ডার ড. রাব্ববান আলীর উপস্থিতিতে মুচলেকার বিনিময়ে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।

22089973_10203753299510447_980758105111316730_n

এদিকে একই ভ্রাম্যমাণ আদালত সকালে নগরীর হালিশহর এলাকার হিউমান ডায়াগনোস্টিক সেন্টারে পৃথক অভিযান পরিচালনা করেন। সেখানে প্যাথোলজিতে বেশকিছু মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্ট পাওয়া যায়। তাদের ফ্রিজে রিএজেন্ট এবং ওষুধ যেখানে সংরক্ষণ করা হচ্ছিল, সেখানে একই যায়গায় কাচা মাংস রাখা হচ্ছিল।

এছাড়া রেডিওলজি বিভাগের টেকনিশিয়ানের কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ সনদ নেই। এসব কারণে পৃথক দুটি মামলায় প্রতিষ্ঠানটিকে দুই লক্ষ এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন বলেন মেয়াদোত্তীর্ন রিএজেন্ট ব্যবহার করে পরীক্ষার কাজ চালানো মানুষের সাথে প্রতারণা।

ড. মোঃ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ রিএজেন্টে কখনই সঠিক ফলাফল আসবে না। এছাড়া ফ্রিজারে অষুধ রিএজেন্টের পাশে মাংস রাখা একেবারেই উচিত নয়।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে পরিচালিত এই আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া মুন। সাথে ছিলেন সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ড. মোঃ ওয়াজেদ চৌধুরী অভি এবং সিভিল সার্জন চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মেডিকেল অফিসার ড, মোঃ নূরুল হায়দার। অয়াদালতের অভিযানে আরও ছিলেন ঔষধ তত্ত্বাবধায়ক গুলশান জাহান এবং পুলিশ বাহিনীর সদস্যগণ।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানা যায়।