নভেম্বর মাসের মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণ

সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ধারাবাহিকভাবে উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) বা স্মার্টাকার্ড বিতরণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকার বাইরে এখনও এ কার্যক্রম শুরু হয়নি। তবে নভেম্বরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে এই কার্ড সীমিত আকারে হলেও বিতরণে যাবে সংস্থাটি।

সূত্র জানায়, উপজেলা পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল চোখের আইরিশ ও দশ আঙুলের ছাপ নেওয়ার স্ক্যানার না থাকা। এর আগে দু’বার টেন্ডার দিয়েও মামলা সংক্রান্ত জটিলতায় ঝুলে যায় স্ক্যানার কেনার কার্যক্রম। এবার টেন্ডার প্রক্রিয়ার পাশপাশি উপজেলা কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই স্ক্যানার কিনছে নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে এক সেট করে মেশিন কেনার জন্য প্রতিটি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়কে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট উপজেলা কর্মকর্তা এক সেট করে মেশিন নির্দিষ্ট বিক্রেতা থেকে কিনবেন।

জানা যায়, সব উপজেলায় এভাবে স্ক্যানার কেনার পর প্রতিটি জেলা পর্যায় থেকে স্মার্টকার্ড বিতরণে যাবে কমিশন। অর্থাৎ, কোনো জেলায় পাঁচটি উপজেলা থাকলে সেই পাঁচটি মেশিন একত্রে নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলায় একেকটি এলাকা ধরে কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।

ইতোমধ্যে স্ক্যানার মেশিন কেনার অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। বর্তমানে বরাদ্দ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দেশের প্রায় ৫শ উপজেলার জন্য একটি চোখের আইরিশ নেওয়ার যন্ত্র এবং একটি দশ আঙুলের ছাপ নেওয়ার যন্ত্র মিলে এক সেট স্ক্যানার কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে আড়াই কোটি টাকা। এ টাকা সরকারি তহবিল থেকেই সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এ মাসের মধ্যেই বরাদ্দ দেওয়ার কাজ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে দ্রুততার সঙ্গে স্ক্যানারগুলো কেনার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হবে উপজেলা কর্মকর্তাদের। এসব কাজ দ্রুততার সঙ্গে সম্পন্ন করে নভেম্বরের মধ্যেই উপজেলা পর্যায়ে স্মার্টকার্ড বিতরণে যাবে ইসি।

এদিকে টেন্ডারের মাধ্যমে স্ক্যানার কেনার কাজও দ্রুততার সঙ্গে এগিয়ে চলছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, টেন্ডার

জমা পড়েছে। ইভালুয়েশনের কাজও প্রায় শেষ। এরপর সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ দেওয়ার সুপারিশ করে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক ও নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন নেওয়া হবে। সবমিলিয়ে নভেম্বরের মধ্যে এ প্রক্রিয়ায় বড় আকারের স্ক্যানার কেনা হবে।

২০১১ সালে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন বিশ্ব ব্যাংকের সহায়তায় আইডেনটিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস-আইডিইএ প্রকল্পটি হাতে নেয়। সে সময় ১০ বছর রেয়াতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে ১৭০ মিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার চুক্তি করেছিল নির্বাচন কমিশন। যেখানে ৯ কোটি ভোটারের স্মার্টকার্ড সরবরাহ করার কথা ছিল ২০১৫ সালের মধ্যে। কিন্তু প্রকল্পের মেয়াদ কয়েক দফা বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এই প্রকল্প থেকেই মোটাদাগে স্ক্যানার কেনা হবে বলে জানা যায়।

আরও জানা যায়, আইডি‌ইএ প্রকল্পের ৯ কোটি ভোটারের মধ্যে ইতোমধ্যে ১২ দশমিক ৪১ মিলিয়ন অর্থাৎ, ১ কোটি ২৪ লাখ ১০ হাজার কার্ড উৎপাদন (ব্ল্যাঙ্ক কার্ডের মধ্যে নাগরিক তথ্য ইনপুট সম্পন্নকরণ) হয়েছে। এরমধ্যে ১০ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন অর্থাৎ, ১ কোটি ৯ লাখ ৮০ হাজার কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে অবশিষ্ট ৭৭ দশমিক ৫৯ মিলিয়ন অর্থাৎ, ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৯০ হাজার কার্ড উৎপাদনের কাজ চলছে।

দেশে বর্তমানে ভোটার রয়েছে ১০ কোটি ১৭ লাখের মতো। এরসঙ্গে চলমান হালনাগাদ শেষে আরও যোগ হবে ৩৫ লাখ। তাই এই ১ কোটি ৫৩

লাখ নাগরিক এবং ভবিষ্যতে যারা ভোটার হবেন তাদের স্মার্টকার্ড সরবরাহ করতে সরকারি তহবিল থেকে ১ হাজার ৬শ কোটি টাকার একটি নতুন প্রকল্প হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।