শাকিব খানের বিরুদ্ধে মামলা নিয়ে তোড়জোড়

ছবিতে অন্যের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার নিয়ে হবিগঞ্জে চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে অটোরিকশা চালকের দায়ের করা প্রতারণা ও ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তাগিদ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ধার্য করা দিনে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করায় বাদীপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা জাহান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে এ তাগিদ দেন। পরে এ মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয় ২০১৮ সালের ৬ ফেরুয়ারি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এমএ মজিদ জানান, মামলার প্রতিবেদন নির্ধারিত তারিখে দাখিল না করায় তিনি আবেদন করলে বিজ্ঞ বিচারক এ তাগিদ দেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের উপ পরিদর্শক (এসআই) ইকবাল বাহার জানান, তদন্ত কাজ এগিয়ে চলেছে। মামলার আসামিরা দেশের বিভিন্ন এলাকার হওয়ায় তদন্তে বিলম্ব হচ্ছে। বিশেষ করে প্রধান আসামি সাকিব খান দেশে না থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া যাচ্ছে না। তাকে হবিগঞ্জে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এর জন্য সময় প্রার্থনা করে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহ এবং ইউটিউবে প্রচারিত রাজনীতি ছবিতে নায়িকা অপু বিশ্বাসের একটি সংলাপ হচ্ছে, ‘এভাবে বারবার আর কোনো দিন চলে যেতে দেবো না আমার স্বপ্নের রাজকুমার।’ জবাবে নায়ক শাকিব খান বলেন, ‘আমিও তোমাকে আর ছেড়ে যাব না আমার রাজকুমারী।’ এরপর নায়িকা অপু বিশ্বাসের সংলাপ- ‘‘আমার ফেইসবুক আইডি যে ‘রাজকুমারী’ তুমি তা জানলে কি করে?’’ জবাবে শাকিব খান বলেন, ‘যেভাবে তুমি জান আমার মোবাইল নম্বর ০১৭১৫২৯৫২২…’।

প্রকৃতপক্ষে ওই মোবাইল নম্বরটি হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের সিএনজি চালক ইজাজুল মিয়ার। এরপর থেকে নায়ক শাকিব খান ভেবে ইজাজুলের মোবাইল নম্বরে শত শত ফোন আসতে থাকে। শাকিব খান ভেবে ইজাজুলের বাড়িতে চলে আসে খুলনার এক মেয়ে। বিষয়টি যন্ত্রণার কারণ হয় ইজাজুলের জন্য। তিনি এ বিষয়ে জিডি করেন। তারপরও কোনো কাজ না হওয়ায় গত ২৯ অক্টোবর তিনি হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শম্পা জাহানের আদালতে প্রতারণা ও ৫০ লাখ টাকার মানহানির অভিযোগে মামলা করেন।

মামলায় শাকিব খান ছাড়াও ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস ও প্রযোজক আশফাক আহমদকে আসামি করেন ইজাজুল। বাংলাদেশের শীর্ষ নায়কের বিরুদ্ধে মামলা করে রাতারাতি তারকা খ্যাতি পান তিনি। ইজাজুলের সাক্ষাৎকার প্রচারিত হয় দেশের শীর্ষ দৈনিকগুলোসহ ভারতের আনন্দবাজার, ফ্রান্সের সংবাদ সংস্থা এএফপি, ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইল ও সংবাদ সংস্থা বিবিসিসহ বিভিন্ন দেশী-বিদেশী সংবাদ মাধ্যমে। যমুনা টিভিতে ইজাজুল মিয়ার লাইভ সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। তা ছাড়া বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি টিভি চ্যানেলে ইজাজুল মিয়ার বক্তব্য প্রচার করা হয়।

মামলা করার পর বিদেশ থেকে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন শাকিব খান। পরবর্তীতে একটি ছবির মহরত অনুষ্ঠান শেষে হবিগঞ্জে দায়ের করা মামলার বিষয়টি হেসে উড়িয়ে দেন তিনি। কিন্তু তার ছবির পরিচালক ও প্রযোজককে ইতোমধ্যে মামলার কাজে হবিগঞ্জে আসতে হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল বাহার জানান, আমরা শাকিব খানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করছি। ইতোমধ্যে অপর দুই আসামি ছবির পরিচালক ও প্রযোজক তাদের বক্তব্য দিয়েছেন। শাকিব খান বর্তমানে বিদেশে। দেশে এলে তার বক্তব্য জানা যাবে।

মামলার বাদি ইজাজুল মিয়া জানান, ইচ্ছা করলে তদন্ত প্রতিবেদন কোর্টে দাখিল করা যেত। কেন যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে দেরি করা হচ্ছে তা আমি জানি না। তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ জানান, ভারতে সালমান খানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। নায়িকা জেনিফার লোপেজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শীর্ষ নায়ক-নায়িকার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাংলাদেশে শাকিব খানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা নতুন কিছু নয়। আইন সবার জন্য সমান। মামলার বাদি তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে ডকুমেন্টারি এভিডেন্স দিয়েছেন। মামলাটিও ডকুমেন্টারি এভিডেন্সের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা। আমরা আশা করব, দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন কোর্টে দাখিল করা হবে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।