Breaking News

এই ১৫টি অভ্যাস যা মহিলাদের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর, ৫নাম্বারটি প্রায় সকল মহিলারই আছে

আমরা মেয়েরা সারা দিন ধরে এমন অনেক কাজ করি যা আমাদের স্বাস্থ্যর পক্ষে ক্ষতিকারক। আমাদের রোজকার জীবনে সেগুলি এমনভাবে জায়গা করে নিয়েছে যে এগুলিকে এখন আটকানো কঠিন। আমরা মেয়েরা নিজেদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খুবই খুঁতখুঁতে। সে শ্যাম্পু করা, ব্রাশ করা হোক বা রোজকার স্পা করা। কিন্তু এর সাথে সাথে এমন কিছু বদঅভ্যাস করে থাকি যেগুলি করা উচিত নয়।

এবারে শরীরের নিম্নাঙ্গের কথায় আসা যাক, যেখানে আমাদের অতিরিক্ত নজর রাখা উচিত। তা সে সাবান এর ব্যবহার হোক কিংবা তার দেওয়া আন্ডারওয়ারের ব্যবহার, আমাদের মেয়েদের নিজেদের শরীর নিয়ে আরো বেশি সচেতন হওয়ায় উচিত। আমরা অনেক সময় কিছু না বুঝেই শরীরের ওপর অনেক অত্যাচার করে ফেলি।

এখানে আমরা একটা লিস্ট তৈরি করেছি যেগুলি আমরা অনেক সময় করে থাকি কিন্তু আমাদের এগুলি থেকে সাবধানে থাকা উচিত।

১. সারা দিন ধরে একই স্যানিটারি প্যাড পড়ে থাকলে চলবে না…

একই স্যানিটারি প্যাড অনেকক্ষণ ধরে পড়ে থাকলে সেটা নোংরা হয়ে যায়। তাই প্রত্যেক চার ঘণ্টা অন্তর স্যানিটারি প্যাড পালটানো উচিত। যদি একই প্যাড অনেকক্ষণ ধরে পড়ে থাকা হয় তাহলে সেখান থেকে যোনিতে সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে।

২. সপ্তাহে মাত্র একবার ব্রা ধোয়া…

প্যাড লাগানো ব্রা এবং তার দেওয়া ব্রার ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য। সঠিক হাইজিন বজায় রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই অনেক বিশেষজ্ঞ উপদেশ দেন যে বড়জোড় তিনবার ব্যবহারের পর ব্রা ধুয়ে ফেলা উচিত। বার বার আকাছা ব্রা ব্যবহারের ফলে স্তনের আকৃতির পরিবর্তন ঘটে যেতে পারে।

৩. গ্রীষ্মকালে কালো ব্রা ব্যবহার করা…

গ্রীষ্মকালে কালো ব্রা ব্যবহার করলে আপনার গরম বেশি করবে। তাই গ্রীষ্মকালে ছাপা, হালকা রং এর ব্রা ব্যবহার করা উচিত।

৪. ঘুমানোর সময় ব্রা পড়ে থাকা…

এটা খুবই ক্ষতিকারক অভ্যাস। ঘুমানোর সময় ব্রা পড়ে থাকলে বক্ষের পেশি সংকোচিত হয়ে থাকে, এর ফলে রক্ত চলাচল বাধা প্রাপ্ত হয় যা স্তনের কোষের ক্ষতি করে। এছাড়াও ব্রা স্ট্রাপের ফলে কালশিটে দাগ হতে পারে।

৫. সাবান দিয়ে যোনি পরিষ্কার করা…

নিচে ওই জায়গার ব্যাপারগুলি খুব সূক্ষ, তাই বিশেষ যত্ন নেওয়া উচিত। সেই জন্য ওখানে সাবান ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই, শুধুমাত্র জল ব্যবহার করলেই সেটা যথেষ্ঠ। আপনি জানলে অবাক হবেন যে যোনির নিজে থেকেই পরিষ্কার করার পদ্ধতি আছে।

৬. তার দেওয়া ব্রা পড়ার প্রতি যে দুর্বলতা আছে…

তার দেওয়া ব্রা ব্যবহার করলে চামড়ায় চুলকানি, স্তনে ফাংগাস, রক্ত চলাচলে স্ম্যাসা এবং হাইপারপিগমেন্টেশন এর মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই এটা যেন রোজকার অভ্যাসে না পরিণত হয়। এছাড়াও এগুলি যেন খুব চাপ না হয়। কারণ স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করাই আসল কথা।

৭. সরাসরি চামড়ায় ডিওড্রেন্ট ব্যবহার করা…

এটা খুবই ক্ষতিকারক অভ্যাস কারণ এর ফলে চামড়ায় নানা রকম সমস্যা হতে পারে এমনকি স্তন ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। কারণ এরমক অভ্যাসের ফলে রক্তে ক্ষতিকারক পদার্থের মিশ্রণ ঘটে। প্যাকিং এ চামড়ার ওপর ব্যবহার নিরাপদ লেখা থাকলেও এটা শুধুমাত্র কাপড়ের ওপর ব্যবহার করা উচিত।

৮. কোন রকম সতর্কতা ছাড়া রোদে বেরিয়ে পড়া…

ক্ষতিকারক সূর্য রশ্মি থেকে নিজের ত্বক কে বাঁচানো খুবই জরুরি। সবসময় নিজের মুখ এবং হাত কে বাঁচান। সূর্যের অতি বেগুনি রশ্মি ত্বক কে পুড়িয়ে দিতে পারে। তাই সবসময় সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ত্বক কে ঢেকে রাখুন।

৯. রাতে শোয়ার আগে মেক-আপ না পরিষ্কার করা…

রাতে শোয়ার আগে ভাল করে ফেস ওয়াস দিয়ে মুখ ধুলে আপনি মেক-আপ এবং মুখের অন্যান্য ময়লা থেকে মুক্তি পাবেন। মেক-আপ নিয়ে শুলে ত্বকের বয়স খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে যায়, এছাড়াও ব্রন এবং অন্যান্য সমস্যা দেখা যায়। তাই মেক-আপ তুলে ফেলাই ভাল।

১০. নিয়মিত গাইনিকোলজিস্ট এর কাছে যাওয়া…

আপনার শরীরের সুন্দর অংশগুলির বিশেষ যত্ন প্রয়োজন। তাই আপনার শরীরে প্রতিনিয়ত কি ঘটে চলেছে সে সম্পর্কে আপনার সুস্থ ধারণা থাকা প্রয়োজন। তাই নিয়মিত গাইনিকোলজিস্ট এর কাছে গেলে আপনার শরীর এবং মন দুই ভাল থাকবে।

১১. ব্রেকফাস্ট না খাওয়া…

আমাদের রোজকার জীবনে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ খাবারটি হচ্ছে ব্রেকফাস্ট। তাই ব্রেকফাস্ট না খাওয়া শরীরের পক্ষে ক্ষতিকারক, এটা আপনার শরীরে অতিরিক্ত শক্তি কে ব্যবহার করে এবং দেহের বিপাক ক্রিয়া কে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ব্রেকফাস্ট না করলে আপনি শরীরে দুর্বলতা বোধ করবেন এবং তা পরোক্ষে আপনার ওপর মানসিক চাপও তৈরি করবে।

১২. নখ কামড়ানো… এই অভ্যাসটি সহজে আপনি বুঝতে পারবেন না। বিশেষ করে আপনি যখন স্নায়ুচাপে ভোগেন বা শুধুমাত্র অভ্যাসের জন্য আপনি নখ কামড়ান। আপনাকে সাবধান করে দিই এর ফলে কিন্তু আপনার শরীরে ক্ষতিকারক জীবাণু প্রবেশ করছে।

১৩. তাড়াতাড়ি খাবার খাওয়া…

একবিংশ শতাব্দীতে আমরা বেশিরভাগ বসে নিশ্চিন্তে খেতে ভূলেই গেছি। আমরা সবসময় তাড়ায় থাকি তা কাজের চাপের জন্যই হোক বা সময়ের অভাব। এটা বলা হয় যে একবার পূরো খেতে অন্তত ২০ মিনিট সময় নেওয়া উচিত। ভাল করে না চিবিয়ে গিলে ফেললে অ্যাসিডিটি এবং গ্যাসের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সবসময় আসতে আসতে খাওয়া উচিত।

১৪. প্রত্যেক দিন অনুমতির অপেক্ষায় থাকা… এরকম অনেক মহিলা আছে যারা ছোটখাট অপ্রয়োজনীয় ব্যাপারেও অফিসের বস হোক, বন্ধু হোক বা বয়ফ্রেন্ড, তাদের অনুমতির অপেক্ষায় থাকে। কোন নতুন জিনিস করার আগে তারা সবসময় অনুমতি চায়। মহিলাদের উদ্দেশ্য বলছি, আপনারা এই অভ্যাস ঝেড়ে ফেলুন। অযথা সময় নষ্ঠ না করে নিজের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শিখুন।

১৫. ত্বকে খোঁটাখুঁটি করা…

যদি আপনার ত্বকের ব্রন নিয়ে আপনি অতিরিক্ত চিন্তিত হয়ে পড়েন এবং সবসময় তাই নিয়েই ভাবতে থাকেন তাহলে আপনি ব্রন কমার কোন লক্ষণ দেখতে পাবেন না। তাই ওই নিয়ে ভাবা বন্ধ করুন। আর ওর ওপর বারবার খোঁটাখুঁটি করা বন্ধ করুন কারণ এমন করলে ওই জায়গায় কালো দাগ হয়ে যেতে পারে।

আপনি নিশ্চয়ই নিজের যত্ন নিতে চাইবেন। আপনারা নিজেরাই এই কাজটি সবথেকে ভাল করতে পারবেন।