Breaking News

‘মাকে দাফন করে বাবার মরদেহ নিতে এসেছি’

চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার পর ঘুরতে নেপাল যাচ্ছিলেন মো. নজরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী আখতারা বেগম। গত ১২ মার্চ, সোমবার দুপুরে কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় বিমান দুর্ঘটনায় ৫১ জন মারা যান, তাদের মধ্যে তারা দুজনও রয়েছেন।

১৯ মার্চ, সোমবার ২৩ জন বাংলাদেশির সঙ্গে নজরুল ইসলামকে ছাড়াই লাশ হয়ে দেশে ফেরেন আমৃত্যু একসঙ্গে চলা আখতারা বেগম। এরপর গত ২০ মার্চ, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে রাজশাহী নগরীর কামারুজ্জামান চত্বরের কাছাকাছি একটি গোরস্থানে আখতারা বেগমকে সমাহিত করা হয়। তাদের সন্তানদের ইচ্ছা ছিল, বিমান দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-মাকে একসঙ্গে দাফন করবেন। কিন্তু বাবা নজরুল ইসলামের লাশ চিহ্নিত না হওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।

অবশেষে সব অনিশ্চয়তা কাটিয়ে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় বাকি থাকা তিন বাংলাদেশির লাশও দেশে এসেছে। এই তিন লাশের একটি মুক্তিযোদ্ধা নজরুল ইসলামের। বৃহস্পতিবার বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার মরদেহ নিতে এসেছেন দুই মেয়ে-নাজনীন আখতার কাঁকন ও নারগিস আখতার কনক।

নজরুল ইসলামের ছোট মেয়ে কনক বলেন, ‘নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় আব্বু-আম্মু দু’জন মারা যান। গত মঙ্গলবার আম্মুর মরদেহ ঢাকা থেকে নিয়ে রাজশাহীতে দাফন করেছি। আজ আবার এসেছি আব্বুর মরদেহ নিতে।’

কথা বলার সময়ই বারবার চোখের পানি সরাচ্ছিলেন কনক। চাপাকান্না ছাপিয়ে জানান, আম্মুর পাশেই আরেকটি কবর খুঁড়ে ঢাকা এসেছি। বাবাকে নিয়ে গিয়ে তার পাশে দাফন করব।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কেমন লাগছে, পৃথিবীর কাউকে বলে বোঝানো যাবে না। এই কষ্ট সহ্য করা সম্ভব নয়। মা-বাবাই ছিল আমার জীবনের সবকিছু ছিল। তাদের ছাড়া প্রতিটি মুহূর্ত কেমনে কাটবে, সেটি ভাবতেই দম বন্ধ হয়ে আসে।’

মা-বাবার স্মৃতিচারণ করে কনক বলেন, ‘আমি সারাক্ষণ আব্বুর সঙ্গে থাকতাম। ছোট হওয়ায় তিনি আমাকে খুব আদর করতেন। বড় আপুর চেয়েও বেশি। হঠাৎ এভাবে তিনি চলে যাবেন, কল্পনাও করতে পারিনি।’

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মোহনপুর উপজেলায় নজরুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি। রাজশাহীর উপশহরে তারা স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। নজরুল ইসলাম বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক লিমিটেডের (বিডিবিএল) রাজশাহী ব্রাঞ্চের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ছিলেন। তার স্ত্রী আখতারা বেগম রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক শিক্ষক। সম্প্রতি তারা দুজনেই অবসরে যান। উপশহর এলাকার এক নম্বর সেক্টরের ৩১৯ নম্বর বাড়িটিতে থাকতেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম ও আখতারা বেগম দম্পতি।

তাদের দুই মেয়ে নাজনীন আখতার কাঁকন ও নারগিস আখতার কনক। বড় মেয়ে কাঁকনের বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে কনক ঢাকার উত্তরার উইমেনস মেডিক্যাল কলেজের ফোর্থ ইয়ারের স্টুডেন্ট। তারা দুই জনেই ঢাকায় থাকেন। বড় মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার পর নজরুল ইসলাম ও আখতারা বেগম দম্পতি দুই জনেই বেশিরভাগ সময় ঢাকায় থাকতেন। রাজশাহীতে আসতেন বাড়িঘর দেখাশুনা করতে ও ভাড়া নিতে।