Breaking News

দুই টুকরো হয়ে যাচ্ছে আফ্রিকা !!

আফ্রিকার কেনিয়া দেশটির ভূখণ্ডে দেখা দিয়েছে বিশাল এক ফাটল। কয়েক দিন ধরে এই ফাটল দ্রুত বর্ধনের ফলে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে দেশটিতে।

১৯ মার্চ শুরু হয়ে এখনো ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে এই ফাটল, জানিয়েছে কেনিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেইলি নেশন। আফ্রিকার রিফট ভ্যালির অংশ, সুসওয়া অঞ্চলে দেখা দিয়েছে এই ফাটল। ভূতাত্ত্বিকভাবেই রিফট ভ্যালিতে ফাটল দেখা যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু সাধারণত বছরে কয়েক মিলিমিটার করে বাড়ে এসব ফাটল। কেনিয়াতে খুব দ্রুত এবং বিশাল আকারে তৈরি হওয়া ফাটলটি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের নজর কাড়তে শুরু করেছে ইতোমধ্যেই।

কেনিয়ার সুসওয়া অঞ্চলের মাই মাহিউ-নারক রাস্তাটি সমতল ছিল এবং এর আশপাশে ছিল কৃষি জমি। কিন্তু সোমবার থেকে এখানে ফাটল দেখা দেওয়ায় রাস্তাটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এই এলাকাটির মাটিতে দেখা দিয়েছে ৫০ ফুট গভীর এবং অন্তত ৬৫ ফুট প্রশস্ত একটি ফাটল।

ফাটল দেখা দেওয়ার পরপরই ওই এলাকা থেকে সরে যাওয়া শুরু করেন স্থানীয়রা। ৭২ বছর বয়সী মেরি ওয়ামবিউ বলেন, ‘এখানে থাকা মানে মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানানো।’

তিনি সোমবার রাতে পরিবার নিয়ে খেতে বসেছিলেন। তখনই পায়ের নিচে ওই ফাটল দেখা দেয়। তাদের বাড়ি দুই ভাগ হয়ে গেছে বলে তিনি জানান।

আফ্রিকার গ্রেট রিফট ভ্যালি এলাকাটি ৬,০০০ কিলোমিটার লম্বা। এই এলাকা বরাবর ছোট থেকে মাঝারি ফাটল প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এত বড় ফাটলের ঘটনা বেশ বিরল।

গ্রেট রিফট ভ্যালি এমন একটি ভূতাত্ত্বিক কাঠামো, যা থেকে গবেষকরা বলতে পারেন, এই বরাবর ফাটল তৈরি হয়ে আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড থেকে আলাদা হয়ে যাবে সোমালিয়া, ইথিওপিয়ার অর্ধেকটা, কেনিয়া এবং তানজানিয়া। এই রিফটের জায়গায় জেগে উঠবে একটি সমুদ্র। তবে তা ঘটতে ৫০ মিলিয়ন বছর লাগবে।

রিফট ভ্যালির নিচের দিকেই আছে সুসওয়া এলাকাটি। এখানে ভূপৃষ্ঠের নিচে টেকটোনিক প্লেটের সক্রিয়তা বেশি। সেই সঙ্গে বিভিন্ন আগ্নেয়গিরির প্রভাবও রয়েছে। অতীতে রিফট ভ্যালি মোটামুটি নিষ্ক্রিয় ছিল বটে। কিন্তু ভূপৃষ্ঠের নিচে হয়তো এমন কিছু হচ্ছে, যার ফলে ভূপৃষ্ঠে দেখা দিয়েছে ফাটল, ডেইলি নেশনকে জানিয়েছেন ভূতত্ত্ববিদ ডেভিড আদেদে। এসব ফাটলের ভেতরে নিকটবর্তী আগ্নেয়গিরি মাউন্ট লঙ্গোনটের ছাই পাওয়া যায়।

এসব ফাটল আরও বেশি প্রশস্ত হয় বৃষ্টির কারণে। বৃষ্টিতে ছাই ধুয়ে গিয়ে ফাটক উন্মুক্ত করে দিচ্ছে। কেনিয়া ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি এসব ফাটল কংক্রিট এবং পাথর দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু তা একটি অস্থায়ী সমাধান।

‘পৃথিবীর ভেতর থেকে ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ঘটছে, একে থামানো সম্ভব নয়’, বলেন আদেদে।

কেনিয়ার ফাটল নিয়ে এপির ভিডিও-