Breaking News

আমাদের একটু একা থাকতে দিন, বললেন পাইলট আবিদের ভাই

দুর্ঘটনায় চলে গেলেন পাইলট আবিদ সুলতান। একদিকে মৃত্যুশোক, আরেক দিকে বিদেশ থেকে মরদেহ ফেরত আনার ঝামেলায় যখন পরিবারের সবাই উদ্বিগ্ন, এরই মধ্যে স্ট্রোক করেন আবিদের স্ত্রী আফসানা খানম। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে দ্রুত। ছয়দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ শুক্রবার তাকেও মৃত ঘোষণা করলেন চিকিৎসকরা। পরপর এত ঘটনায় বিহ্বল তাদের স্বজনরা। খবরের জন্য ছুটে আসা সাংবাদিকদের কী বলবেন ভাষা খুঁজে পাচ্ছেন না তারা। পাইলট আবিদের ভাই ড. খুরশিদ মাহমুদ সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের একটু একা থাকতে দিন।’

শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটাল থেকে আফসানার মরদেহ বাসায় নিয়ে যান স্বজনরা। আজ বাদ আসর রাজধানীর উত্তরায় ১৩ নম্বর সেক্টরে জানাজা শেষে তাকে বনানীর সামরিক কবরস্থানে স্বামীর কবরের পাশেই দাফন করা হবে।.

লাশের অপেক্ষায় থাকার সময় সাংবাদিকরা আবিদ-আফসানার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ এই দম্পতির একমাত্র সন্তানকেও খুঁজতে থাকেন। পরিবারের সদস্যরা এ সময় শিশুটিকে লুকিয়ে রাখতেও বাধ্য হন। হাসপাতালে পাইলট আবিদের ভাই প্রফেসর ড. খুরশিদ মাহমুদ এ সময় বলেন, ‘ঘটনার পর থেকে কিসের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি তা শুধু আমরাই জানি। উই আর ভেরি মাচ শকড। আমাদের একটু একা থাকতে দিন। বিরক্ত করবেন না। প্লিজ প্লিজ।’

আফসানার ফুফাতো ভাই শাহিনুর ইসলাম স্বপন বলেন, ‘স্ট্রোক করার দিন আফসানার সঙ্গে তার ছেলে ঘুমাচ্ছিল। ওই বাসায় আমাদের এক খালা ছিলেন। ছেলেটি প্রথমে বুঝতে পারেনি। ঘুম থেকে উঠে দেখে তার মা কোনও সাড়া দিচ্ছে না। পরে সে চিৎকার শুরু করে। চিৎকার শুনে অন্যরা এসে সবাইকে খবর দেয়। তাকে (আফসানা) প্রথমে উত্তরা আধুনিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা ফেরত দিলে আমরা এই হাসপাতালে (নিউরোসায়েন্স) নিয়ে আসি। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে তার স্বাস্থ্যের অবস্থার আরও অবনতি শুরু হয়। শরীরে কোনও অর্গান কাজ করছিল না। সকালে চিকিৎসকরা আবার চেক করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় নিহত হন পাইলট আবিদ সুলতান। এর ছয়দিন পর ১৮ মার্চ সকালে স্ট্রোক করেন আফসানা। তাকে প্রথমে উত্তরার একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে। সেখানে একবার অস্ত্রোপচার করা হলেও ওই দিন রাতেই আবার স্ট্রোক করেন আফসানা। তার অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় আবার অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। এরপর থেকেই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। তার অবস্থা তখন থেকেই সংকটাপন্ন ছিল।

উল্লেখ্য, পাইলট আবিদসহ নেপালে নিহত ২৩ জনের লাশ গত সোমবার (১৯ মার্চ) ঢাকায় আনা হয়। ওই দিনই পাইলট আবিদকে বনানীতে সামরিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।