Breaking News

যে মেয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই ছবি এঁকেছিল, সে যা বলছে শুনলে অবাক হবেন

অজানা ভয় কাজ করছে অদ্রিজা করের (১১) মাঝে। সে আগৈলঝাড়া সদরের শ্রীমতি মাতৃ মঙ্গল বালিকা বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। উপজেলা বন্দরের শান্তিরঞ্জন মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্ত্বাধিকারী পরিমল করের মেয়ে। সে ছোটবেলা থেকে ছবি আঁকে। ছবি এঁকে বিভিন্ন সময় পুরস্কারও পেয়েছে মেয়েটি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি আঁকতে তার ভালো লাগে।

এজন্য স্বাধীনতা দিবসের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় সে বঙ্গবন্ধুর ছবি এঁকেছিল। ছবি আঁকায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করায় পুরস্কার পেয়েছিল সে। পুরস্কার পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছিল সে। অভিভাবকরাও মেয়ের পুরস্কার প্রাপ্তিতে আনন্দে ভেসেছিলেন।

তবে তার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি এখন ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু অদ্রিজা কর এর মাঝে এখন ভয় কাজ করছে। তবে কিসের জন্য ভীত সে, বিষয়টি ১১ বছর বয়সী অদ্রিজা ভালোভাবে বুঝাতে পারছে না।

অদ্রিজা করঅদ্রিজা জানায়, পুরস্কার দেয়া স্যারকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর বাবা ফেসবুক থেকে আমার আঁকা বঙ্গবন্ধুর ছবিটি সরিয়ে ফেলেছে। কারও সঙ্গে কথাও বলতে দিচ্ছে না বাবা-মা। আর অদ্রিজার পরিবার পড়েছে বিব্রতকর অবস্থায়।

অদ্রিজার বাবা পরিমল কর জানান, এ ঘটনার পর আমরাও বিব্রতরকর অবস্থায় আছি। অনেক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হচ্ছে। কোনো সমস্যা আছে কিনা জানতে আত্মীয়-স্বজনও ফোন দিচ্ছে। এর সঙ্গে এলাকাবাসী থেকে শুরু করে সংবাদকর্মী সবাই আসছেন।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাংগঠনিক কমান্ডার এনায়েত হোসেন চৌধুরি জানান, এ ঘটনাটি নেতিবাচক রাজনীতির অশুভ দিক। তার মতে শিশুদের মন থেকে বঙ্গবন্ধুকে সরিয়ে ফেলার অপচেষ্টার প্রকাশ।

প্রসঙ্গত, বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।

রোববার বেলা সাড়ে ১১টায় অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট অমিত কুমার দে মামলাটি খারিজ করে দেন। তিনি আগৈলঝাড়া উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় মামলাটি দায়ের হয়েছিলো।

মামলার বাদী বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও আওয়ামী লীগ থেকে সদ্য বহিষ্কৃত নেতা অ্যাডভোকেট অবায়দুল্লা সাজু মামলা প্রত্যাহারের আবেদন করলে বিচারক তা মঞ্জুর করে মামলাটি খারিজ করে দেন।

পঞ্চম শ্রেণির শিশুর আঁকা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি দিয়ে কার্ড প্রকাশের পর বরগুনার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে মামলা করায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ দেখা গেছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ছাড়াও দলীয় লোকজন এবং সাধারণ মানুষের মনে এ নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শুধুই কি ছবি আঁকা নাকি অন্য কোনো কারণ আছে, সেটি নিয়েও জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।

এবছরের গত ৭ জুন ইউএনও গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে অ্যাডভোকেট সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজু বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। বাদীর অভিযোগ, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রের পেছনের দিকে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করে ছাপিয়েছেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন।

বুধবার (১৯ জুলাই) এ মামলার শুনানি ছিল। সকালে জামিন না-মঞ্জুর হলেও বিকেলে জামিন পান বরগুনার ইউএনও সালমন।

এ বিষয়ে মামলার বাদী বরিশালের আইনজীবী সমিতির সভাপতি সৈয়দ ওবায়েদ উল্লাহ সাজুর বক্তব্য, ইউএনও কাজী তারিক সালমন বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি আমন্ত্রণপত্রে ছেপেছেন এবং শেষের পাতায় ছেপে বঙ্গবন্ধুর অবমাননা করেছেন।

তবে মামলার কারণ অনুসন্ধানে অন্য তথ্য জানা গেছে। জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আগৈলঝাড়ার শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে পিয়াল নামের এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেন ইউএনও গাজী তারিক সালমন। পিয়াল স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে। বহিষ্কৃত পিয়াল ওইদিন ইউএনও’র সঙ্গে অসদাচরণ করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ছয়মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পিয়ালকে নকল সরবরাহের দায়ে একই দিন ওই কলেজের দপ্তরী নারায়ণকে দুই মাসের কারাদণ্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া নকল সরবরাহের দায়ে কলেজের প্রভাষক অরুণ বাড়ৈকে পরীক্ষা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, এসব কারণে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী মহল ইউএনও গাজী তারিক সালমনের ওপর চরম ক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন।

একটি সূত্র জানায়, টিআর-কাবিখা প্রকল্পের আওতায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে আগৈলঝাড়া উপজেলার সোলার প্যানেল স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ৭৯ লাখ টাকা ফেরত পাঠান ইউএনও। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা ওই টাকা তাদের নিজেদের মতো করে খরচ করতে চেয়েছিলেন। তাতে সফল না হয়ে ইউএনও গাজী তারিক সালমনকে জব্দ করতে তার বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর ছবি বিকৃত করার অভিযোগ তুলে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এরপর ৭ জুন গাজী তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি করেন ওবায়েদ উল্লাহ সাজু। ওইদিন মামলা আমলে নিয়ে আদালতের বিচারক ২৭ জুলাইয়ের মধ্যে তারিক সালমনকে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়ে সমন জারির আদেশ দেন। বুধবার আদালতে ইউএনও তারিক হাজির হয়ে জামিন আবেদন করলে প্রথমে নাকচ হলেও দ্বিতীয়বারে তার জামিন মঞ্জুর হয়।